আধুনিক যুগের কবি-সাহিত্যিকগণ

বিসিএস-সহ বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার জন্য বাংলা বিভাগ থেকে আধুনিক যুগ অংশ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ; বিসিএসের সিলেবাসে এ অংশের নম্বর ১৫। এ অংশ মূলত অসংখ্য কবি-সাহিত্যিক নির্ভর।অনেকে সবার সব পড়তে গিয়ে হাঁপিয়ে ওঠেন। এখানে কবি-সাহিত্যিকদের জীবনকাল, তাদের সম্পর্কে উল্লেখযোগ্য তথ্য (যেখানে শুধু,নাম আর সাল যা খুবই বিরক্তিকর) জানতে হবে।কিন্তু কতজনকে কতটুকু পড়তে হবে এ বিষয়ে অনেক পরীক্ষার্থীরই নেই কোন সুস্পষ্ট ধারণা।এর আগে আমি বলেছিলাম ১০ জনের চৌদ্দগুষ্টি উদ্ধার করতে এবং সে ১০ জন সম্পর্কে  বিস্তারিত আলোচনা করে আমি পোস্টও দিয়েছিলাম। আজ থেকে ২-৩টি পোস্টের মাধ্যমে যাদের সম্পর্কে হালকার ওপরে ঝাপসা জানতে হবে তাদের আলোচনা শেষ করব। আশা করি আপনারা দুর্দান্ত ফল পাবেন।

১। অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত :

→ কল্লোল গোষ্ঠীর এ লেখকের ‘বেদে’  নামে একটি বিখ্যাত উপন্যাস আছে।এটি তার প্রথম উপন্যাসও বটে।

→ তার প্রথম কাব্যগ্রন্থ হল ‘অমাবস্যা’।

২। অতুলপ্রসাদ সেন:

→ তিনি কবি,গীতিকার ও গায়ক হলেও সুরকার ও গীতিকার হিসেবে বেশ প্রসিদ্ধি অর্জন করেছেন।

→তিনি প্রায় ২০০টি গান রচনা করেছেন।ষাটের দশকে পূর্ব বাংলায় বাঙালি জাতীয়তাবাদী আন্দোলনকারীদের  মনে উদ্দীপনার সঞ্চার করেছিল তার “মোদের গরব, মোদের আশা,আমরি বাংলা ভাষা” গানটি।

৩। অদ্বৈত মল্লবর্মণ :

→বিখ্যাত ‘তিতাস একটি নদীর নাম’ (১৯৫৬) উপন্যাসটি তিনি রচনা করেছেন।এটি ৪ খণ্ডে প্রকাশিত।

৪। অন্নদাশঙ্কর রায়:

→ ছদ্মনাম : লীলাময় রায়( লীলা রায় তার স্ত্রীর নাম)।

→ তার উল্লেখযোগ্য ভ্রমণকাহিনি হল ‘পথে প্রবাসে'(ফ্রান্সে ভ্রমণের অভিজ্ঞতা), ইউরোপের চিঠি।

→বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে লেখা তার বিখ্যাত কবিতা –

“যতকাল রবে পদ্মা যমুনা গৌরী মেঘনা বহমান

ততকাল রবে কীর্তি তোমার শেখ মুজিবুর রহমান”

৫।আখতারুজ্জামান ইলিয়াস:

→মূলত কথাসাহিত্যিক।

→ উপন্যাস: চিলেকোঠার সেপাই (১৯৮৭)।ঊনসত্তরের গন-অভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে রচিত মহাকাব্যিক উপন্যাস।

→ খোয়াবনামা ( ১৯৯৬)। গ্রাম বাংলার নিম্নবিত্ত শ্রমজীবী মানুষের জীবনালেখ্যসহ ফকির-সন্ন্যাসী বিদ্রোহ,আসামের ভূমিকম্প,তেভাগা আন্দোলন,১৯৪৩-এর মন্বন্তর,পাকিস্তান আন্দোলন ও সাম্প্রদায়িক দাঙা ইত্যাদি ঐতিহাসিক উপাদানের অবলম্বনে এ উপন্যাস রচিত।

→ ছোটগল্প: অন্য ঘরে অন্য স্বর,খোঁয়ারি, দুধভাতে উৎপাত,দোযখের ওম।

→ প্রবন্ধগ্রন্থ : সংস্কৃতির ভাঙা সেতু।

৬। আনোয়ার পাশা : কবি, সাহিত্যিক,সমালোচক ও শিক্ষাবিদ।মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সিনিয়র লেকচারার ছিলেন।

→উপন্যাস: নীড় সন্ধানী,নিষুতি রাতের গাথা, রাইফেল রোটি আওরাত (মুক্তিযুভিত্তিক উপন্যাস -১৯৭৩)।

→ ১৯৭১ সালের ১৪ ডিসেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কোয়াটার্স থেকে পাক হানাদার বাহিনীর অনুগত আলবদর সদস্যরা তাকে ঢাকার মিরপুরের বদ্ধভূমিতে নিয়ে গিয়ে হত্যা করে।

৭। আবদুল কাদির:

→ মুসলিম সাহিত্য সমাজ থেকে প্রকাশিত ‘শিখা'(১৯২৭) পত্রিকার প্রকাশক ও লেখক ছিলেন।

→ তার ‘ছন্দ-সমীক্ষণ’ গ্রন্থে বাংলা ছন্দের সামগ্রিক রূপটি বিশ্লেষণের প্র‍য়াস আছে।তাকে ‘ছান্দসিক কবি’ বলা হয়।

৮।আবদুল মান্নান সৈয়দ:

→ ছদ্মনাম : অশোক সৈয়দ।

→ তাকে   ‘শুদ্ধতম কবি’ বলা হয়। ‘শুদ্ধতম কবি’ নামে তার একটি প্রবন্ধগ্রন্থ আছে।

৯। আবদুল্লাহ আল-মুতী শরফুদ্দীন:

→ তিনি মূলত বিজ্ঞানলেখক।

→ তার বিজ্ঞানভিত্তিক গ্রন্থ – ‘এসো বিজ্ঞানের রাজ্যে’ (প্রথম গ্রন্থ), ‘তারার দেশের হাতছানি’।

১০।আবু ইসহাক:

→ শরীয়তপুরে জন্ম নেয়া আবু ইসহাকের প্রথম ও শ্রেষ্ঠ উপন্যাস ‘সূর্য-দীঘল বাড়ী'(১৯৫৫)।উপন্যাসটি বাংলাদেশের গ্রাম জীবনের এক বিশ্বস্ত দলিল।জয়গুন,তার ছেলে হাসু,মায়মুন এ উপন্যাসের চরিত্র।

→ এছাড়াও ‘পদ্মার পলিদ্বীপ’ ও ‘জাল’ তার আরো দুটি উপন্যাস।

→ গল্পগ্রন্থ: ‘হারেম’ ও ‘মহাপতঙ্গ’।

→ ‘জোঁক’ গল্পে মহাজন ও বর্গাচাষীদের চিরন্তন বিরোধ চিত্রিত হয়েছে।

 

৩৭তম বিসিএস এর চূড়ান্ত প্রস্তুতির জন্য জয়েন করুন আমাদের ফেসবুক গ্রুপে। জয়েন করতে এখানে ক্লিক করুন।
ভাল লাগলে Post টি শেয়ার করুন।

Comments

আমাদের ফেসবুক গ্রুপে সংযুক্ত আছেন? না থাকলে আপনার ফেসবুক এপ খুলে ‘BCS Corner‘ লিখে এখনই খোঁজ লাগান। প্রস্তুতির জন্য কতটা কাজে আসতে পারে যোগ না দিলে সম্ভব না জানা!