বাংলা ভাষার উদ্ভব

১। মানুষের যেমন পরিবার /বংশ/গোষ্ঠী আছে ভাষারও তেমনি পরিবার /বংশ/গোষ্ঠী আছে। পৃথিবীতে যে সাড়ে তিন হাজারের ওপরে ভাষা আছে তাদের প্রায় শতাধিক ভাষাগোষ্ঠী আছে যদিও শতাধিক ভাষাগোষ্ঠীর মধ্যে প্রধান ভাষাগোষ্ঠী বারোটি। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ভাষার জন্ম হয়েছে যে ভাষাগোষ্ঠী থেকে অর্থাৎ পৃথীবীর সর্ববৃহৎ ভাষাগোষ্ঠীর নাম ইন্দো-ইউরোপীয় ভাষাগোষ্ঠী।এই পরিবারটির বিস্তৃতি ভারতীয় উপমহাদেশ থেকে ইউরোপের পশ্চিম প্রান্তে একেবারে আইসল্যান্ড পর্যন্ত। ইন্দো-ইউরোপীয় ভাষাগোষ্ঠীকে দুইভাগে ভাগ করা হয়েছে-
(ক) কেন্তম ও
(খ) শতম
কেন্তম শাখায় ইউরোপীয় ও শতম শাখায় ইন্দো-ইরানীয় ভাষাগুলোর অবস্থান। বাংলা ইন্দো-ইউরোপীয় ভাষাবংশের শতম শাখার একটি ভাষা।

২। ইন্দো-ইয়োরোপীয় ভাষাগোষ্ঠী > শতম>ইন্দো-ইরানীয় বা আর্য > প্রাচীন ভারতীয় আর্য > প্রাচ্য > প্রাকৃত। প্রাকৃত শব্দের অর্থ স্বাভাবিক।প্রাকৃতের দুটি রূপ আছে-

(ক) মাগধী প্রাকৃত > মাগধী অপভ্রংশ( অপভ্রংশ অর্থ বিকৃত) – ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়ের মতে, দশম শতাব্দীতে এ মাগধী প্রাকৃত থেকে বাংলা ভাষার জন্ম হয়েছে।
(খ) গৌড়ীয় প্রাকৃত > গৌড়ীয় অপভ্রংশ > বঙ্গকামরূপী > বাংলা ও অসমিয়া – ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহর মতে, সপ্তম শতাব্দীতে বঙ্গকামরূপী ভাষা থেকে বাংলা ভাষার জন্ম হয়েছে। এ মতটিই আধুনিক গবেষকদের কাছে অধিকতর গ্রহণযোগ্য।

৩। বাংলা ভাষার আদি স্তরের স্থিতিকাল সপ্তম থেকে দ্বাদশ শতাব্দী (শহীদুল্লাহর মতে), দশম থেকে চতুর্দশ শতাব্দী(সুনীতিকুমারের মতে)।

৪। বঙ্গকামরূপী ভাষা থেকে বাংলা বাদে সৃষ্ট আরেকটি ভাষা হলো অসমিয়া তাই অসমিয়াকে বাংলা ভাষার ভগ্নীসম্পর্কীয় ভাষা বা সহোদরা গোষ্ঠীর ভাষা বলা হয়।

৫। প্রদত্ত চিত্রটি ভালো করে দেখুন,বুঝুন। মূল তালিকাটি অনেক বড় হলেও শিক্ষার্থীদের সুবিধার্থে সংক্ষিপ্ত করা হয়েছে।

৬। বাংলার আদি অধিবাসীদের ভাষা বাংলা ছিল না। তাদের ভাষা ছিল অস্ট্রিক।

বাংলা ভাষার উদ্ভব

বাংলা ভাষার উদ্ভব

আফছার উদ্দিন জুয়েল
৩৩ তম বিসিএস (সাধারণ শিক্ষা)

 

এরকম আরও তথ্যবহুল পোস্ট পেতে আমাদের ফেসবুক গ্রুপে জয়েন করুন এখানে ক্লিক করে

পোস্টটি শেয়ার করে টাইমলাইনে রেখে দিন তাহলে পরবর্তীতে সহজেই খুঁজে পাবেন।

আমাদের ফেসবুক গ্রুপে সংযুক্ত আছেন? না থাকলে আপনার ফেসবুক এপ খুলে ‘BCS Corner‘ লিখে এখনই খোঁজ লাগান। প্রস্তুতির জন্য কতটা কাজে আসতে পারে যোগ না দিলে সম্ভব না জানা!